
আব্দুস সাত্তার, স্টাফ রিপোর্টার: আন্ত:জেলা ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এর কাজিপাড়া শাখার সহ সভাপতি ও বগুড়া জেলা শাখার সদস্য জাহিদুল ইসলামকে অন ডিউটি অবস্থায় কাহালু থানার এস আই বেলাল ও কালাই ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নাসিরের বাসায় ফোন করে ডেকে নিয়ে মারপিট করে ১ লক্ষ টাকা নগদ নেয় ও সাদা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার অনুসন্ধানে ও জাহিদুলের ছোট ছেলে পারভেজের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যর ভিত্তিতে জানা যায়, মৃত জাহিদুল ইসলাম তার ২য় স্ত্রী আখি খাতুনকে নিয়ে বগুড়ারি গোদারপাড়ার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।মাঝে মাঝে নানান ছুতোয় জাহিদুলের বগুড়ার বাসায় যাতায়াত করতেন নাসির। যাতায়াতের এক পর্যায়ে আখির সাথে পরকীয়ার জড়ান নাসির উদ্দীন। ঈদের ১সপ্তাহ আগে জাহিদুল কে তালাক দিয়ে নাসির কে বিয়ে করে আখি। এই বিষয় নিয়ে নাসিরের সাথে জাহিদুলের দ্বন্দ চলছিল। গতকাল ঈদের নামাযের পরে জাহিদুল কে মোবাইলে কল দিয়ে নাসির আপোষ এর কথা বলে ডেকে নেয় তার বাড়িতে।নাসিরের বাড়িতে জাহিদুল দেখা করতে গেলে আগের থেকেই নাসিরের ঘরে ওত পেতে থাকা নাসির সহ তার লোকজন এলোপাথারি ভাবে লোহার রড় দিয়ে পিটাতে থাকে জাহিদুলকে।মারপিটের এক পর্যায়ে জাহিদুল দূর্বল হয়ে পড়লে নাসির কাহালু থানার এসআই বেলাল কে কল দিয়ে জরুরী ভিত্তিতে নাসিরের বাড়িতে আসতে বলা হয়। তখনেএসআই বেলাল তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়ায় নাসিরের বাড়িতে চলে যায়। সেখানে গিয়ে ঘটনা শোনার পরে এসআই বেলাল বেশ কয়েকটি চড় থাপ্পড় মারে জাহিদুলকে। এরপর ৩০০টাকার সাদা স্ট্যাম্পে এসআই বেলাল ও নাসির স্বাক্ষর নেন এবং জাহিদুলের কাছে থাকা নগদ ১ লক্ষ টাকা নেন এবং জাহিদুলকে বাড়িতে ফিরে গিয়ে আরো ৩ লক্ষ টাকা নাসিরকে দিতে জাহিদুলকে চাপ দেন এসআই বেলাল ও নাসির।
এরপর মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরে বাড়ির উঠানে পড়ে যান জাহিদুল। তার পড়ে যাওয়ায় ঘর থেকে ছুটে বের হয়ে আসেন স্ত্রীপলি বেগম ও বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলম পলাশ । স্ত্রী ও ছেলেকে কাছে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন জাহিদুল, বলতে থাকেন নাসির ও এসআই বেলাল তাকে রড দিয়ে মেরেছে।বাঁ হাতের পেশীতে বার্মিজ ছুরি দিয়ে কোপ দিয়েছে।এছাড়াও তারা জোর করে মুখে গ্যাসের ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দিয়েছে।
জাহিদুলের কথা শুনে তৎক্ষনাৎ বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান স্ত্রী, সন্তান ও বড় ভাই। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন ও বিষ পেট থেকে বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু জাহিদুলের অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার সময় শমিজেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন জাহিদুল।এরপর লাশ ময়না তদন্ত শেষে আজ দুপুর ২টার সময় জাহিদুলের পরিবারের কাছে জাহিদুলের লাশটি হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে ঘটনা বেগতিক দেখে ও ঘটনা জানাজানি হওয়ায় সটকে পড়েন নাসির ও আখি আক্তার। এই বিষয়টি বগুড়ার আন্ত:জেলা ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রাসেল মন্ডল জানতে পারলে তিনি কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হান্নানের সাথে যোগাযোগ করলে ওসি আব্দুল হান্নান তৎক্ষনাৎ বগুড়ার পুলিশ সুপার কে বিষয়টি অবগত করেন এবং এসপির নির্দেশে এসআই বেলাল কে কাহালু থানা থেকে অপসারণ করা হয় এবং বগুড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
এদিকে এসআই বেলাল, নাসির ও আখির বিচারের দাবিতে ফুসে উঠেছে শেখাহারের তেলিপাড়া গ্রামের মানুষ। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দোষিদের ফাঁসির দাবি করেন।
এই বিষয়ে কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হান্নানের সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করলে উত্ত ঘটনার সাথে জড়িত এস আই বেলাল কে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানায়।এছাড়াও পরিবারের সাথে আলোচনা করে তারা মামলা দিলে মামলা নেওয়া হবে এবং দোষিদের দ্রুত গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি।