
উৎপল ঘোষ,যশোর জেলা প্রতিনিধি: যশোর বাঘারপাড়া বহরমপুরের হত্যা মামলার ৩ জন পলাতক আসামী গ্রেফতার করে র্যাব -৬। মামলা সূত্রে জানা যায় যে, ভিকটিম কলেজে পড়ালেখার সময় অত্র মামলার ১নং আসামী সালমান, ভিকটিমকে বিভিন্ন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ উদ্দেশ্যে ভালবাসার ফাঁদে ফেলে গত ইং ১২ মে২০১৯ বাড়ি থেকে ভাগিয়ে বিয়ে করে এবং কয়েকমাস অজ্ঞাত স্থানে বসবাস করার পর ১নং আসামী, ভিকটিমকে নিয়ে তার নিজ বাড়ীতে উঠে। ভিকটিমকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ভালো ভাবে মেনে নেয় না। ফলে বিভিন্ন সময় তার উপর নির্যাতন অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে ভিকটিমের স্বামী সহ তার পরিবারের লোকজন ভিকটিমের নিকট ০৪ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। ভীকটিম যৌতুকের টাকা এনে দিতে পারবে না এবং স্বামীর বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবে না। ভিকটিমের কথা শুনে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ইং ২৭ মে ২০২০ ভিকটিমের স্বামী মোঃ সালমান, শ্বশুর সাইদুর রহমান, শাশুড়ী শরিফা বেগম ও মামাতো দেবর মোঃ ছবুর হোসেন মিলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে জোরপূর্বক বিষ পান করিয়ে হত্যা করে। হত্যা নিশ্চিত করে আসামীরা প্রতিবেশীদের একত্রিত করে জানায় যে, ভিকটিম বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয় এবং পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বিজ্ঞ আলাদতের মাধ্যমে বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে, যশোর বাঘারপাড়া থানায় মামলা নং ৬২, তাং- ০৯/১১/২০২০ ইং, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১১ (ক)/৩০ রুজু করা হয়। মামলা রুজু হলে সকল আসামীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার পূর্বক জেল হাজতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আলাদত হতে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে নিয়মিত হাজিরা না দিয়ে নিজেদের আত্মগোপন করলে বিজ্ঞ আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেন। যশোর র্যাব-৬,কোম্পানির অধিনায়ক মেজর মো: সাকিব হোসেন জানান, ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল উক্ত আসামীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৭ মার্চ রাত আনুমানিক ০৩.১৫ মিনিটির সময় জানতে পারে যে, জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন বহরমপুর এলাকায় আসামীরা অবস্থান করছে। এমন সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে ২০২৪ রাত আনুমানিক ০৪.৩০ মিনিটের সময় আসামি সাইদুর রহমান(৬০), শরিফা বেগম (৫০) ও মোঃ ছবুর হোসেন (৪২)দের’কে গ্রেফতার করে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীদের যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।