
বগুড়া প্রতিনিধি: বিএমএ’র বগুড়া শাখা স্ব ঘোষিত সভাপতি ডাক্তার আশফারুল হাবিব রোজ এর সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের আওয়ামী জোটের কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ মোজাফ্ফর হোসেন ডালিম এখন বগুড়া জেলার চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী পরিষদের (আসাদ জামান গ্রুপের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্ৰ করে বগুড়ায় অন্যান্য চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে দারুন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে গত ২০১৯ সালে গঠিত বঙ্গবন্ধু পরিষদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বগুড়া শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোঃ মোজাফ্ফর হোসেন ডালিম বগুড়া বিএম এর স্ব-ঘোষিত সভাপতি ডাক্তার আশফারুল রোজ এর সহযোগিতায় আওয়ামী ভোল্ট পাল্টিয়ে কেন্দ্রের কতিপয় স্বার্থনেষী নেতাকে ম্যানেজ করে গত ২৭/০৫/২০২৫ ইং তারিখে চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী সমিতি বগুড়া জেলা শাখা নামে অপর একটি বিতর্কিত কমিটির অনুমোদন নিয়ে আসে। তারা বিএনপি’র সমর্থিত বৈধ কমিটি দাবী করে পূর্বের জেলা কমিটির (জিল্লুর-রুহুল) চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এই ঘটনায় উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হইলে বিএনপি’র জেলা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার হস্তক্ষেপে বর্তমানে উভয় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী জোটের সদস্য ডালিমকে বিএনপি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার ঘৃণ্য চেষ্টায় ডাক্তার আশফারুল হাবীব রোজ কে নিয়ে বগুড়াবাসী তথা বিএনপির অনুসারীদের মাঝে তুলেছে নানান প্রশ্ন। অনেকে মন্তব্য করতে শুরু করেছে ডাক্তার রোজ কি ফ্যাসিবাদ আওয়ামী জোটকে বিএনপি সাজিয়ে তাদেরকে গত ০৫ আগস্টের দায় থেকে কি মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে?
যত অভিযোগ মোঃ মোজাফ্ফর হোসেন ডালিমের বিরুদ্ধে: বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কমিটির সদস্য পদ বাগিয়ে নিয়েই বনে যান এক দানবে। দখলে নেন শহীদ জিয়া মেডিকেল হাসপাতাল, গড়ে তোলেন এক অপরাধ জগতের সাম্রাজ্য।শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোজাফ্ফর রহমান ডালিম নামে এক নতুন ডনের আবির্ভাব ঘটায় শজিমেকের পরিচালক হতে শুরু করে সকল কর্মচারী তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার জন্মস্থান কুমিল্লা জেলা হলেও সে বগুড়ায় শজিমেকে বিগত সময় থেকেই রাম রাজত্ব চালাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের এক শ্রেণির কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সে বগুড়ায় শজিমেকে বিভিন্ন শাখায় আউটসোর্সিং এর নামে দেদারছে লোক নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তার সিন্ডিকেটের দাপটে সেবা বিভাগ থেকে শুরু করে ঔষধ বিতরণ এমনকি হাসপাতালের মর্গে থাকা মৃত ব্যক্তির লাশ হস্তান্তরেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এগুলো সকল শাখা থেকে সে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সে অর্থের পাহাড় গড়ে তুলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শমিজেক এর একাধিক কর্মচারীরা এই সকল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে লোক নিয়োগ, মর্গে লাশ নিয়ে বাণিজ্য ও সরকারী ঔষধ বিনামূল্যে বিতরণ না করে গোপনে বাইরে বিক্রি করে অল্প সময়েই হয়েছেন কোটি টাকার মালিক। রয়েছে তার নামে বেনামে ফ্লাট,বাড়ি,গাড়ি ও নগদ টাকার মালিক।তার কথায় যেন শমিজেক এর শেষ কথা। টাকা দিয়ে তিনি যে কারো মুখ বন্ধ করতে পারেন। কেউ যদি তার বিরুদ্ধে মুখ খোলে বা প্রতিবাদ করে তবে তার পালিত গুন্ডা বাহিনী দিয়ে তিনি তাদের ওপরে হামলা করান। এমনকি তার ভয়ে হাসপাতালের পরিচালক পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পায়না।
এই বিষয়ে মোজাফ্ফর হোসেন ডালিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনারা ভুল তথ্য পেয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলেন কলটি কেটে দেন ডালিম।