
বগুড়ার নন্দীগ্রামের পল্লীতে স্বামীর কুড়ালের আঘাতে স্ত্রী নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগীতায় ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৪নং থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশো লয়দাপাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত স্বামীর নাম মোঃ তায়েজ উদ্দিন (৫৫)। সে বাঁশো গ্রামের মৃত কছির সর্দারের ছেলে। নিহত স্ত্রীর নাম মোছাঃ মোর্শেদা বেগম (৪২)। সে অভিযুক্ত তায়েজ উদ্দিনের স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের তালগাছি গ্রামের মৃত মকু মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯শে নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্বামী তায়েজ উদ্দিন হাসুয়া ও কুড়ার নিয়ে স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের উপর আক্রমন করে। এ সময় মাকে বাঁচাতে তাদের ছোট মেয়ে এগিয়ে আসলে তার উপরও আক্রমন চালায়। সে সময় মেয়ে পালিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দরজা আটকিয়ে দিয়ে জীবন রক্ষা করে। তবে স্বামীর হাতে থাকা হাসুয়া ও কুড়ালের উপর্যুপরি আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে স্ত্রী মোর্শেদা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্বামী তায়েজ উদ্দিন ভয়ে মাটির ঘরের দোতলায় হাসুয়া ও কুড়াল নিয়ে লুকিয়ে থাকে।
এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত স্বামী তায়েজ উদ্দিন মানসিক রোগী। সে দীর্ঘদিন পাবনা মানুষিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২ বছর পূর্বে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। গতকালও স্বামী স্ত্রী মিলে বাজার থেকে সার নিয়ে জমিতে সরিষা রোপন করেছে। হঠাৎ কেন এমন হলো তা কারো বোধগম্য নয়।
ঘটনার বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফইম উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের সহযোগীতায় অভিযুক্ত স্বামী তায়েজ উদ্দিনকে মাটির দোতলা ঘর হতে আটক করা হয়েছে এবং হত্যার কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। সেই সাথে নিহত মোর্শেদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।