
উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় এলপি গ্যাস নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের প্রায় সব এলাকাতেই গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। কোথাও সিলিন্ডার মিলছে না, আবার কোথাও তা বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে। ফলে রান্নাবান্না নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো পরিবার।
স্থানীয় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও তারা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মজুত করা গ্যাস অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণত ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকায়।
গাইবান্ধা শহরের কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা মমতাজ বেগম বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে দোকানে দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছি না। টাকা থাকা সত্ত্বেও রান্না করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে এখন লাকড়ি কিনে রান্না করতে হচ্ছে, যা খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশেরও ক্ষতি করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের সমস্যার কারণে গাইবান্ধায় পর্যাপ্ত এলপি গ্যাস পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। পরিবেশক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। এতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল এসব পরিবার এখন কাঠ, লাকড়ি কিংবা কেরোসিনের চুলার দিকে ঝুঁকছেন। তবে এসব বিকল্প জ্বালানির দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
খন্দকার মোড় এলাকার বাসিন্দা শাপলা বেগম বলেন, ছেলেমেয়ের পড়াশোনার জন্য শহরে ভাড়া বাসায় থাকি। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার মধ্যে গ্যাসের এই অস্বাভাবিক মূল্য আমাদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৩০০ টাকার গ্যাস এখন ১৬৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে।
খুচরা বিক্রেতা সোহেল মিয়া জানান, তারা পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় নিয়মিত বিক্রি করতে পারছেন না। অপরদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, পরিবেশক ও ডিলারদের একটি সিন্ডিকেটের কারণেই এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কালোবাজারি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন গাইবান্ধার সাধারণ মানুষ। তারা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক মাস এই অবস্থা চলতে থাকলে জেলার হাজারো পরিবারের দৈনন্দিন জীবন কার্য অচল হয়ে পড়বে।