
মহান রব সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন সাত দিনে। শুরু করেছেন রবিবার শেষ করেছেন শুক্রবার। তার হুকুম-আহকাম, আদেশ- নিষেধ পালনের জন্য। অনেকগুলো হুকুমতের মধ্যে” সালাত কায়েম” অন্যতম হুকুমত। সৃষ্টিলগ্ন থেকে প্রায় সকল নবী রাসুলের প্রতি সালাত আদায়ের নির্দেশনা আল কুরআনে পাওয়া যায়। ইসলামের প্রথম যুগ তথা হযরত মুহাম্মদ সাঃ দ্বারা সুত্রপাত হয় জুমআ সালাত ১ম হিজরি (৬২২ খ্রীস্টাব্দে হিসাব অনুযায়ী) মক্কা জীবনে সালাত –হযরত মুহাম্মদ সাঃ কতৃক ৫ ওয়াক্ত সালাত বাস্তবায়িত হলেও প্রকাশ্য সালাত আদায় অনেক দুষ্কর ছিল। বুকে ভয় নিয়ে গোপনে বা চুপি চুপি অনেকে আদায় করতেন। (হুকুম ছিল আল্লাহর) মক্কা জীবনে “জুমআ” সালাতের হুকুম থাকলেও রাসুল সাঃ কখনো পড়েছেন এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
মদিনা জীবনে ১ম জুমআ—
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন মুহাম্মদ (সাঃ) ১ম হিজরি ১২ রবিউল আউয়াল (সোমবার) তিনি কুবা নামক জায়গায় পৌঁছান। কয়েকদিন সেখানে অবস্থান করে কুবা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। বানু সালেম নামক উপত্যাকায় উচ্চ স্বরে প্রথম শুক্রবার জুমআর খুৎবা প্রদান ও সালাত আদায় করেন। মুহাম্মদ সাঃ যথাযথ “জুমআ” সালাত আদায়ের জন্য খুৎবা পাঠ করছিলেন প্রায় ১২০/১২৪ জন সাহাবী নিয়ে। ইয়েমেন থেকে আগাত একদল বানিজ্যিক কাফেলা আসলেন বিভিন্ন মাল-পত্র বিক্রয়ের উদ্দেশ্য। তৎকালীন সময়ে বর্তমান সময়ের মতো বাজার বা মার্কেট ছিল না। তাই অনেক দিন পর পর মাল-পত্র নিয়ে
বনিকরা উপস্থিত হতো। বনিকরা তাদের বাঁশি বাজিয়ে বা ঢোল পিটিয়ে উপস্থিতি জানিয়ে দিত। হঠাৎ সেই শব্দ শোনা মাত্রই খুৎবা না শুনে প্রায় সকল মুসল্লী মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল। তথ্য অনুযায়ী মাত্র ১২ জন মসজিদে ছিল। মুহাম্মদ সাঃ এই দৃশ্য দেখে অবাক হলেন ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেন। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনুল কারিমে আয়াত নাজিল করলেন-হে মুমিনগণ জুমআর দিনে সালাতের জন্য যখন আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচেকেনা (ব্যাবসা-বানিজ্যের) পরিত্যাগ করো। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে” (সুরা “জুমআ”আয়াত ৯)। রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন-যে দিনগুলোতে সুর্য উদিত হয়েছে, তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমআর দিন। এ দিনে আদম আঃ কে সৃষ্টি করেছেন। (সহিহ মুসলিম – হাদিস ৮৫৪)
সালাত ও খুৎবার গুরুত্ব –
শুক্রবার হলো ইয়াওমুল জুমআ একত্রিত বা সম্মিলিত হওয়ার দিন। যোহর সালাত ৪ রাকাত ফরজ করা হলেও “জুমআ” (শুক্রবার) করেছেন ২ রাকাত ফরজ যা মুসলিমের জন্য অনেক বেশি কল্যাণকর। পরবর্তী সময়ে মহান আল্লাহ “জুমআ” সালাতের আগে খুৎবা পাঠ ও পরে সালাত আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছেন। আসুন একজন মুসলিম হিসেবে মহান আল্লাহ ও রাসুলের সুন্দর পথ দেখানো পথেই অবিচল থাকি। সেই সাথে নৈতিকতা, সমালোচনা মুক্ত, সমাজ ও রাষ্ট্রের নিয়ম মেনে প্রকৃত ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি —
লেখক: এম মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক, দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।