রাজধানীতে কাতার প্রবাসী সিফাত মৃত্যুর ঘটনা: প্রেমিকা ও প্রধান অভিযুক্তসহ আটক ৩

রাজধানীর সবুজবাগ আদর্শপাড়া এলাকায় কাতার প্রবাসী সিফাত উল্লাহকে (২৭) নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩। র‍্যাবের ভাষ্যমতে, ত্রিভুজ প্রেমের সম্পর্কের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র‍্যাব-৩ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

  1. আল আমিন হোসেন জয় (২৭)
  2. মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)
  3. নাফিজা শেখ নেহা (২৩)

র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁও থানাধীন শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জয়কে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। এছাড়া, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রেমিকা নাফিজা শেখ নেহাকেও এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ

জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‍্যাব জানায়, দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে ফেরেন সিফাত। তার সঙ্গে নেহার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে, সাজিদের সঙ্গে নেহার চার বছরের বেশি সময় ধরে সম্পর্ক থাকলেও সিফাতের বিষয়টি সে জানত না। গত ২৫ আগস্ট নেহার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সাজিদ বিষয়টি জানতে পারলে তাদের সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে। এদিকে, নেহার বন্ধু আল আমিন হোসেন জয় স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে নেহার বাসায় বন্ধুদের নিয়ে মাদক সেবন করতেন, যা সিফাত পছন্দ করতেন না এবং তাদের সেখানে আসতে নিষেধ করেছিলেন। এই ক্ষোভ থেকেই মূলত হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।

ঘটনার বিবরণ

নেহা মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় একটি রুম সাবলেট নিয়ে অনলাইন ব্যবসা করতেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে সিফাত মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে নেহার সঙ্গে দেখা করতে যান। খবর পেয়ে জয়ের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ কয়েকজন ওই বাসায় উপস্থিত হয়। বাসায় প্রবেশের পর সিফাতের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে ইয়াছিন ও রাজু আহত হলে তারা নিচে নেমে আসে। সিফাতও মোটরসাইকেলে করে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করলে জয়ের সহযোগীরা তাকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে মারে। সিফাত মাটিতে পড়ে গেলে জয় লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়।

আইনি পদক্ষেপ

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সিফাতকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সিফাতের পরিবার বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গ্রেপ্তাররা হলেন- আল আমিন হোসেন জয় (২৭) ও মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে, গ্রেফতার সাজিদের সঙ্গে নেহার গত ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং নেহার সঙ্গে সিফাতের সম্পর্কের বিষয়ে সাজিদ অবগত ছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই সময় জয় বিল্ডিংয়ের নিচে অবস্থান করছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

রাজধানীতে কাতার প্রবাসী সিফাত মৃত্যুর ঘটনা: প্রেমিকা ও প্রধান অভিযুক্তসহ আটক ৩

আপলোডের সময় : 09:50:11 am, Tuesday, 8 September 2026

রাজধানীর সবুজবাগ আদর্শপাড়া এলাকায় কাতার প্রবাসী সিফাত উল্লাহকে (২৭) নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩। র‍্যাবের ভাষ্যমতে, ত্রিভুজ প্রেমের সম্পর্কের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র‍্যাব-৩ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

  1. আল আমিন হোসেন জয় (২৭)
  2. মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)
  3. নাফিজা শেখ নেহা (২৩)

র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁও থানাধীন শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জয়কে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। এছাড়া, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রেমিকা নাফিজা শেখ নেহাকেও এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ

জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‍্যাব জানায়, দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে ফেরেন সিফাত। তার সঙ্গে নেহার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে, সাজিদের সঙ্গে নেহার চার বছরের বেশি সময় ধরে সম্পর্ক থাকলেও সিফাতের বিষয়টি সে জানত না। গত ২৫ আগস্ট নেহার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সাজিদ বিষয়টি জানতে পারলে তাদের সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে। এদিকে, নেহার বন্ধু আল আমিন হোসেন জয় স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে নেহার বাসায় বন্ধুদের নিয়ে মাদক সেবন করতেন, যা সিফাত পছন্দ করতেন না এবং তাদের সেখানে আসতে নিষেধ করেছিলেন। এই ক্ষোভ থেকেই মূলত হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।

ঘটনার বিবরণ

নেহা মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় একটি রুম সাবলেট নিয়ে অনলাইন ব্যবসা করতেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে সিফাত মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে নেহার সঙ্গে দেখা করতে যান। খবর পেয়ে জয়ের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ কয়েকজন ওই বাসায় উপস্থিত হয়। বাসায় প্রবেশের পর সিফাতের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে ইয়াছিন ও রাজু আহত হলে তারা নিচে নেমে আসে। সিফাতও মোটরসাইকেলে করে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করলে জয়ের সহযোগীরা তাকে লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়ে মারে। সিফাত মাটিতে পড়ে গেলে জয় লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়।

আইনি পদক্ষেপ

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সিফাতকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সিফাতের পরিবার বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গ্রেপ্তাররা হলেন- আল আমিন হোসেন জয় (২৭) ও মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে, গ্রেফতার সাজিদের সঙ্গে নেহার গত ৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং নেহার সঙ্গে সিফাতের সম্পর্কের বিষয়ে সাজিদ অবগত ছিল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই সময় জয় বিল্ডিংয়ের নিচে অবস্থান করছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক।