
ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মহল্লার ১ নম্বর সড়কে অবস্থিত ‘জনতা ল্যাবরেটরিজ আয়ুর্বেদিক’ নামের একটি অবৈধ ওষুধ কারখানায় পুনরায় অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন) ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সাকিব রহমান। অভিযানে এসআরবি-১০–এর ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছিল। তখন অবৈধভাবে ওষুধ উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বায়েজিদ হোসেনকে (শাহেদ) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বায়েজিদ হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড পাওয়ার পর গতকাল বিকেলে দলটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। দলের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বায়েজিদের বাড়ি আলফাডাঙ্গা উপজেলায়।
যৌথ বাহিনীর তথ্যমতে, প্রবাসী আবুল কাশেমের মালিকানাধীন চারতলা ভবনের নিচতলায় কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করছিলেন বায়েজিদ। এই ল্যাবে কোনো প্রশিক্ষিত কেমিস্ট বা ফার্মাসিস্ট ছিল না। সাম্প্রতিক অভিযানে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার আয়ুর্বেদিক ওষুধ, শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বেবি জেলি ও যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানায় কর্মরত জিল্লুর রহমান নামের এক কর্মীকে আটক করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ২০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ভবন মালিককে কারখানার সমস্ত যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলার জন্য সাত দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া ভেজাল ওষুধ ও শিশুখাদ্যে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কেমিক্যালগুলো আইন অনুযায়ী বিনষ্ট করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কারখানাটি থেকে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্ষতিকর ওষুধ সরবরাহ করা হতো, যার সপক্ষে বিভিন্ন রসিদও উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 

























