সোমবার থেকে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা চালুর ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে গত কয়েকদিন আগে চালানো তাণ্ডবের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় সংস্কার করে আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকেই পুনরায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করা হবে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবায় নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা যাতে কোনোভাবেই একদিনের জন্যও বন্ধ না থাকে, সেজন্য তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করবেন। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদানসহ যাবতীয় চিকিৎসা সেবা দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। রাতে বুলডোজার ব্যবহার করে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। এমন ধ্বংসযজ্ঞ কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেছেন। ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। তাঁর ভাষ্য, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই।

ঘটনার পর পুলিশের নেওয়া ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে। এছাড়া পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত চলছে। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি সংক্রান্ত কোনো আইনি জটিলতা বা দাবি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানান তিনি। জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

সরকার বা দল এই ঘটনায় বিব্রত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক বলেন, যদিও ঘটনার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম জড়িয়েছে, তবুও বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দলের সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কারো সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে, তিনি দলের যেই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

সোমবার থেকে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা চালুর ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

আপলোডের সময় : 08:52:18 am, Monday, 28 September 2026

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে গত কয়েকদিন আগে চালানো তাণ্ডবের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় সংস্কার করে আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকেই পুনরায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করা হবে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবায় নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা যাতে কোনোভাবেই একদিনের জন্যও বন্ধ না থাকে, সেজন্য তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করবেন। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদানসহ যাবতীয় চিকিৎসা সেবা দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। রাতে বুলডোজার ব্যবহার করে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। এমন ধ্বংসযজ্ঞ কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেছেন। ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। তাঁর ভাষ্য, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই।

ঘটনার পর পুলিশের নেওয়া ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে। এছাড়া পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত চলছে। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি সংক্রান্ত কোনো আইনি জটিলতা বা দাবি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানান তিনি। জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

সরকার বা দল এই ঘটনায় বিব্রত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক বলেন, যদিও ঘটনার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম জড়িয়েছে, তবুও বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দলের সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কারো সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে, তিনি দলের যেই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।