
গত কয়েক বছরে হুথিরা এক শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ইব্রাহিম জালাল আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রত্যক্ষ সহায়তায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং ড্রোনের লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জালালের মতে, ইয়েমেন সরকার ও তাদের মিত্ররা বর্তমানে এমন এক প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করছে, যারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের সামরিক অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত করেছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও কৌশলী অবস্থান
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার ইরানবিরোধী সংঘাতে হুথিরা তাদের নিজস্ব সময় ও সুযোগ বুঝে সক্রিয় হচ্ছে, যা তেহরানের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এ তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
- এই কৌশলের ফলে ইরানের আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে কৌশলগত চাপ স্থানান্তরের সুযোগ পেয়েছে।
- বাব আল-মান্দাবে আগ্রাসী অভিযানের পর হুথিরা গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেদের দখল করা অঞ্চলগুলো সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছে।
- তায়েজ শহরকে ইয়েমেন সরকারের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেন ও লাহিজ প্রদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল গ্রহণ করেছে তারা, যা এডেনের ওপর সামরিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
জালালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে হুথিরা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব শহরের দিকে আরও অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে। মারিব এত দিন তুলনামূলক কম চাপের মুখে থাকলেও, এটিই হুথিদের পরবর্তী প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। হুথিদের এই সামরিক সক্ষমতা ও সাম্প্রতিক অগ্রগতি ইয়েমেন সরকার এবং তাদের মিত্রদের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ আমূল বদলে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। হুথিদের এই বর্ধিত সামরিক সক্ষমতা সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 
























