ঢাকায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা আসছে: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকায় যত্রতত্র ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিষয়ে খুব দ্রুত একটি নীতিমালা কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন ও খননকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই নীতিমালার মাধ্যমে নগরীর প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের খনন ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার পরিবহনব্যবস্থাকে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে অচল হতে দেওয়া যাবে না। তবে সরকার চায় এই প্রক্রিয়াটি এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে যাতে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে না হয়। অটোরিকশা পেশার সঙ্গে দীর্ঘসময় ধরে যুক্ত চালকদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, নীতিমালার কাজ চলমান রয়েছে এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সবার সামনে আসবে। সবার সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই এই অব্যবস্থাপনা থেকে উত্তরণের উপায় খোঁজা হচ্ছে। অটোরিকশাচালকদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একমত হয়ে এই অব্যবস্থাপনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এদিকে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের বৈধতা ও সুরক্ষার দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চালক ও মালিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন। মিছিল শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। অবরোধের ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিক জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। আন্দোলনকারী নেতাদের হুঁশিয়ারি, যদি অটোরিকশা বন্ধ বা নির্বিচারে ডাম্পিং করা হয়, তবে ঢাকা শহরকে অচল করে দেওয়া হবে। এছাড়া চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওয়েরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এদিকে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা বিক্ষোভ ও মিছিল করেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি হলো, অটোরিকশা বন্ধ না করে চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্স প্রদান এবং রোড পারমিটের আওতায় নিয়ে আসা। দীর্ঘ সময় ধরে যারা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের গাড়িগুলো যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বৈধতার সুযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন মালিক-শ্রমিকরা।

একই অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি জানান, এই প্রকল্পের অধীনে লেক খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে মোট ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি এখানে একটি ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণ করা হবে, যেখানে লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুব্যবস্থা রাখা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

ঢাকায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা আসছে: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

আপলোডের সময় : 09:04:17 am, Wednesday, 7 October 2026

রাজধানী ঢাকায় যত্রতত্র ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিষয়ে খুব দ্রুত একটি নীতিমালা কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন ও খননকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই নীতিমালার মাধ্যমে নগরীর প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের খনন ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার পরিবহনব্যবস্থাকে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে অচল হতে দেওয়া যাবে না। তবে সরকার চায় এই প্রক্রিয়াটি এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে যাতে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে না হয়। অটোরিকশা পেশার সঙ্গে দীর্ঘসময় ধরে যুক্ত চালকদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, নীতিমালার কাজ চলমান রয়েছে এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সবার সামনে আসবে। সবার সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই এই অব্যবস্থাপনা থেকে উত্তরণের উপায় খোঁজা হচ্ছে। অটোরিকশাচালকদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একমত হয়ে এই অব্যবস্থাপনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এদিকে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের বৈধতা ও সুরক্ষার দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চালক ও মালিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন। মিছিল শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। অবরোধের ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিক জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। আন্দোলনকারী নেতাদের হুঁশিয়ারি, যদি অটোরিকশা বন্ধ বা নির্বিচারে ডাম্পিং করা হয়, তবে ঢাকা শহরকে অচল করে দেওয়া হবে। এছাড়া চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওয়েরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এদিকে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকেরা বিক্ষোভ ও মিছিল করেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি হলো, অটোরিকশা বন্ধ না করে চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্স প্রদান এবং রোড পারমিটের আওতায় নিয়ে আসা। দীর্ঘ সময় ধরে যারা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের গাড়িগুলো যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বৈধতার সুযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন মালিক-শ্রমিকরা।

একই অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি জানান, এই প্রকল্পের অধীনে লেক খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে মোট ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি এখানে একটি ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণ করা হবে, যেখানে লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুব্যবস্থা রাখা হবে।