
উৎপল ঘোষ,ক্রাইম রিপোর্টার :যশোর মনিরামপুরের সোহাগ হত্যাকান্ডের মুল হোতাসহ ২ জন পলাতক আসামীকে র্যাব -৫ সদর কোম্পানি ও র্যাব – ৪ সিপিসি – ২ এর যৌথ অভিযান চালিয়ে রাজশাহী বাগমারা থেকে ও ঢাকা গাবতলি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
গত ১ লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ রাজশাহী বাগমারা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত আনজাদের পুত্র মোঃ নজরুল ইসলাম গাওরা ও নওশাদ গাওরা ও মৃত সাগর উদ্দিনের পুত্র একই গ্রামে রহিদুল ও জামাল রাজশাহী একটি সরকারি জমি’কে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।
নির্ভরঘোগ্য সুত্র জানায়,সপ্তাহখানেক আগে ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরেন নজরুল ইসলামের ভাতিজা মনোহার হোসেন। মনোহার গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নজরুলের লিজ নেওয়া পুকুর পাড়ে নিজেদের সরিষা ক্ষেতে যান। এ সময় প্রতিপক্ষ রহিদুলের লোকজন মনোহারের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা মনোহারকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়। পরে মনোহারকে উদ্ধার করে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি করেন তার পরিবারের লোকজন। এ নিয়ে দিনভর দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।
এ দিকে মনোহারের আহত হওয়ার খবর পেয়ে তাকে ঢাকা থেকে দেখতে আসেন তার চাচাতো ভাই ইমরান এবং সহকর্মী সোহাগ ও রনি। ঐ দিন তারা সন্ধ্যা আটটার সময় সময় আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে মনোহারকে দেখতে যান। রোগী দেখে সিএনজি যোগে মনোহারের বাড়ির দিকে তার চাচাতো ভাই ইমরান এবং সহকর্মী সোহাগ ও রনিসহ রওনা দেয় এবং বাগমারা উপজেলার মরুগ্রাম ভাঙ্গাপাড়ার মৃত কাজিম উদ্দিনের পুত্র মোঃ ফরিদ উদ্দিন বসতবাড়ির গেটের সামনে আসলে মামলার ঘটনাস্থলে লোকজনের উপস্থিতি দেখলে এলাকার লোকজন মনে করে কে বা কাহারা এসব লোকজনকে ভাড়া করে নিয়ে এসেছে। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৯ টার পর নজরুল ইসলাম গাওরা ও তার ভাই নওশাদ গাওরা ঘটনাটি অন্যভাবে প্রভাবিত করার জন্য তাদের লোকজন নিয়ে হামলা করে এতে অত্র মামলার ভিকটিম যশোর মনিরামপুরের আরশিংগাড়ীর শরিফুল ইসলামের পুত্র মৃত সোহাগ(২২) কে লোহার শাবলের আঘাতে গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হলে ফরিদ উদ্দিনের বাসার গেটের সামনেই মৃত্যুবরণ করেন। আহত বন্ধু মনোহারের সঙ্গে সোহাগ (২২) ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন বলে জানা যায়।
তথ্যনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত ঘটনায় বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ন্যায় র্যাব ও ছায়াতদন্ত শুরু করে। হত্যাকান্ড সংগঠনের পরপরই আসামীগন বিভিন্ন পথে বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করে।
উক্ত মামলার অন্যতম মূলহোতা রাজশাহী বাগমারা উপজেলার মরুগ্রাম ভাঙ্গাপাড়ার মোখলেছ এর পুত্র রায়হান ওরফে রনি (৩১) ও আজিজুর রহমানের পুত্র মোঃ সাজ্জাদ হোসেন (৩০) বিভিন্ন স্থানে আত্বগোপনে থাকে।
র্যাব সুত্র থেকে জানা যায়,র্যাবের আভিযানিক দল ও গোয়েন্দা শাখা প্রায় তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়ে পরবর্তীতে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ র্যাব-৫, সদর কোম্পানী ও র্যাব-৪ এর সিপিসি-২, সাভার ক্যাম্প র্যাবের যৌথ আভিযানিক দল উক্ত মামলার অন্যতম মোঃ সাজ্জাদ হোসেন (৩০), পিতা-মোঃ আজিজুর রহমান, সাং-মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া, থানা-বাগমারা, জেলা-রাজশাহী কে ঢাকার গাবতলী এলাকা হতে গ্রেফতার করেতে সক্ষম হয় এবং তার দেওয়া তথ্যমতে উক্ত মামলার অন্যতম মূলহোতা রায়হান ওরফে রনি (৩১), পিতা-মোঃ মোখলেছ, সাং-মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া, থানা-বাগমারা, জেলা-রাজশাহীকে ১৭ ফেব্রুয়ারী রাত প্রায় ৩ টার দিকে ঢাকা জেলার জিরানী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান অরফে রনি (৩১) ও মোঃ সাজ্জাদ হোসেন (৩০) উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।
উক্ত মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারের বিষয়ে র্যাব-৫ এর আভিযানিক দল তৎপর রয়েছে। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।