
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের তেরো বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তুহিনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আসাদ উল্লাহ সোহাগ নামের এক ভুক্তভোগী। ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ এই তুহিনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যার ফলে আজ সে বড় অপরাধী হয়ে উঠেছে।
আসাদ উল্লাহ সোহাগের দাবি, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি তুহিনের প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। সে সময় তাকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিয়ে কৌশলে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি হাতিয়ে নেয় তুহিন। এই ঘটনার পর তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি, কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি গ্রহণ করেছিল।
থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোহাগ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে পুলিশ তখন তাদের জানিয়েছিল যে তুহিনের পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতার সমর্থন রয়েছে। সেই নেতার ইশারাতেই পুলিশ তুহিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকে। পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, দেশের পুলিশের শুধু পোশাকের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু চরিত্রের কোনো বদল ঘটেনি। অর্থ ও প্রভাব ছাড়া এ দেশে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিচার পাওয়া কঠিন।
তিনি আরও যোগ করেন, নিজের মোটরসাইকেল হারানোর চেয়েও সমাজে অপরাধের সঠিক বিচার না হওয়াটা বড় উদ্বেগের বিষয়। ছোট অপরাধের যথোপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বড় অপরাধ করার সাহস পায়। অতীতে যেসব রাজনৈতিক নেতা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তুহিনকে আইনি বিচার থেকে আড়াল করে রেখেছিলেন, আজকের এই ভয়ানক পরিস্থিতির পর তারা কীভাবে তাকে রক্ষা করবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন এই ভুক্তভোগী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘চোর তুহিন থেকে সে আজকে খুনি তুহিন হয়েছে!’— কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষিকার ১৩ বছরের সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশ হেফাজতে থাকা অন্যতম অভিযুক্ত তুহিনকে নিয়ে ফেসবুকে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেদিন আমি চুপ ছিলাম, কিন্তু আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি—দেশের পুলিশের শুধু পোশাকই পরিবর্তন হয়েছে, চরিত্র বদলায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই তাকে যেন কিছু না করা হয়—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিনিধির নাম 

























