কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ৪১৫ জন আটক

কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে একযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গত রোববার সন্ধ্যা সাতটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় চালানো বিশেষ এ অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আমরা কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।’। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭০। তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অপরাধ প্রবণ এলাকাগুলোতে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। মূলত কিশোরদের আড্ডাস্থল এবং যেসব এলাকায় অপরাধের আশঙ্কা থাকে, সেসব স্থান টার্গেট করে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আটককৃত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং অপরাধের সম্পৃক্ততা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একদিকে কুমিল্লাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে অপরাধপ্রবণতাও কমে আসছে।

এর আগে গত বুধবার ও শনিবার রাতে একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ মোট ৮৭৮ জনকে আটক করেছিল। ওই সময় ৫৯৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয় এবং বাকি ২৮১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে কুমিল্লায় তিন দফা অভিযানে মোট ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, রোববার রাতে শুধুমাত্র কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে। অতীতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

শনিবারের অভিযানে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে পাঁচজন কুখ্যাত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর সক্রিয় সদস্য। এদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী আনিসুর রহমান ওরফে আনিককে রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ছক সাত দিন আগেই টিকটকের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল, যার সঙ্গে এসব অপরাধ চক্রের যোগসূত্র রয়েছে। অপ্রতিমকে হত্যার ছক ৭ দিন আগে, টিকটকে যোগাযোগ।

উল্লেখ্য, গত বুধবারের অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শনিবার রাত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ২৫৪ জনকে আটকের পর ১৪৬ জন কিশোরকে মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়। অপর ১০৮ জনের বিরুদ্ধে মাদক, কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট অপরাধ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ৪১৫ জন আটক

আপলোডের সময় : 09:27:53 am, Monday, 28 September 2026

কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে একযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গত রোববার সন্ধ্যা সাতটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় চালানো বিশেষ এ অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আমরা কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।’। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭০। তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অপরাধ প্রবণ এলাকাগুলোতে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। মূলত কিশোরদের আড্ডাস্থল এবং যেসব এলাকায় অপরাধের আশঙ্কা থাকে, সেসব স্থান টার্গেট করে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আটককৃত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং অপরাধের সম্পৃক্ততা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে একদিকে কুমিল্লাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে অপরাধপ্রবণতাও কমে আসছে।

এর আগে গত বুধবার ও শনিবার রাতে একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ মোট ৮৭৮ জনকে আটক করেছিল। ওই সময় ৫৯৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয় এবং বাকি ২৮১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে কুমিল্লায় তিন দফা অভিযানে মোট ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, রোববার রাতে শুধুমাত্র কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে। অতীতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

শনিবারের অভিযানে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে পাঁচজন কুখ্যাত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর সক্রিয় সদস্য। এদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী আনিসুর রহমান ওরফে আনিককে রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ছক সাত দিন আগেই টিকটকের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল, যার সঙ্গে এসব অপরাধ চক্রের যোগসূত্র রয়েছে। অপ্রতিমকে হত্যার ছক ৭ দিন আগে, টিকটকে যোগাযোগ।

উল্লেখ্য, গত বুধবারের অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শনিবার রাত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ২৫৪ জনকে আটকের পর ১৪৬ জন কিশোরকে মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়। অপর ১০৮ জনের বিরুদ্ধে মাদক, কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট অপরাধ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।