
কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক কাঁচামালের আড়তের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিজন চন্দ্র সাহা (৪৯) নামে এক ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তার কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার বিজন বেগমাবাদ গ্রামের মৃত বীরেন্দ্র চন্দ্র সাহার ছেলে এবং তিনি বরকামতা এলাকার ‘মেসার্স আনন্দ বাণিজ্যালয়’ নামের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মাসিক ২৭,৫০০ টাকা বেতনে কর্মরত বিজন দীর্ঘ ছয় বছর ধরে কৌশলে প্রতিষ্ঠানের অর্থ সরিয়ে আসছিলেন। মালিক আনিসুর রহমানের ভাষ্যমতে, চলতি মাসের ৩ তারিখে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আংশিক আত্মসাতের পর ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। মোট ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব টাকা তিনি নিজের ব্যাংক হিসাব, স্ত্রী ও মায়ের নামে খোলা এফডিআরসহ বিভিন্ন খাতে জমা রাখতেন বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজন নিজের অপরাধ স্বীকার করে অর্থ ফেরতের মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আড়ৎ মালিকের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। উপায়ান্তর না দেখে মালিক পক্ষ দেবিদ্বার থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত অর্থের উৎসের পাশাপাশি অন্য আর্থিক লেনদেনগুলো গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তার ব্যাংক হিসাব ও এফডিআরসহ অন্যান্য নথিপত্র এখন পুলিশের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলার বাদী আনিসুর রহমান বলেন, চলতি মাসের ৩ তারিখে বিজনের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আমাদের কাছে উন্মোচিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ৬ বছরে সে মোট ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরবর্তীতে যোগাযোগ বন্ধ করে পালিয়ে গেলে আমরা বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করি। চাকরির আরও তথ্য: দীর্ঘদিন বিশ্বস্ততার সাথে চাকরি করা কর্মচারীর এমন কাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের হিসাব মেলানোর সময় আড়ৎ মালিক বিপুল পরিমাণ অর্থের গরমিল দেখতে পান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে সামাজিকভাবে দেন-দরবার শুরু হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব, এফডিআরসহ যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছে।
প্রতিনিধির নাম 

























