
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ সরকারি করার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সরকারি হওয়ার উপযোগিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদনও পাঠাতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ২০ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম রেজার দেওয়া একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কলেজটি সরকারি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছিল।
চিঠিতে কলেজটির সার্বিক অবস্থা ও সরকারি করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ডিও পত্রের আলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, কলেজটি সরকারি করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে সমাজসেবী শ্যামলি আফজাল গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। কাজিপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজটি আশপাশের কয়েকটি এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠে।
শিক্ষার মান, ফলাফল এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্যের কারণে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে দুইবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে। চলতি বছর ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিভাগীয় পর্যায়ে রানারআপ হয় কলেজটি। এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পায় তারা।
খেলাধুলাতেও রয়েছে সাফল্য। ২০২৫ সালের আন্তকলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটির দল।
কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। ২০২৩ সালের ডিগ্রি (পাস) চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ওই পরীক্ষায় ১৬ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন।
বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি (পাস) পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে ১২টি কোর্স চালু রয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন ৬১ জন শিক্ষক। এ ছাড়া ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গোলাম মোস্তফা।
কলেজটির অধ্যক্ষ মহসীন রেজা বলেন, সরকারি করার লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা পাওয়া তাঁদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। কলেজটি সরকারি হলে অবকাঠামোসহ শিক্ষার পরিবেশের আরও উন্নয়ন হবে এবং শিক্ষক নিয়োগ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। এতে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় আরও বেশি সুযোগ পাবে।
স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই কলেজটি সরকারি করার দাবি ছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনাকে তাঁরা সেই দাবির বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ সরকারি বিধি অনুযায়ী আরও কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এখন সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে কলেজটি কবে সরকারি হয়, সেদিকেই নজর সবার।